October 15, 2026, 4:13 am

News Headline :
সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির প্রতিবাদে বগুড়ায় মিছিল ও এনসিপি নেতা তানভীরের কুশপুত্তলিকা দাহ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোটারি ক্লাব অব বগুড়ার ২৬তম অভিষেক অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি‘র তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি, শোকজ বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্ণামেন্টের প্রথম রাউন্ড সমাপ্ত ছুটির দিনে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে উত্তপ্ত নেপাল, কারফিউ জারি পাকিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

জামায়াত নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই

যমুনা নিউজ বিডি: বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘এগারো দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে’র প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমি জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাইনা।

আমি এদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের এই সমুদ্রপাড়ের মানুষ ঢেউ-জলোচ্ছাসকে ভয় পায়না। এই ভয়কে যারা জয় করেছে ১২ তারিখও তারা জয় করবে। এদিন নতুন ইতিহাস তৈরি হবে।

জুলাইকে আঁকড়ে ধরার জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে। একই সঙ্গে এগার দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের যেখানে যার হাতে যে প্রতীক আমরা তুলে দেবো তার পক্ষে ঝাপিয়ে পড়তে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরী শুধুমাত্র বন্দর নগরী নয়, শুধু বাণিজ্যিক রাজধানী নয়। এটি এক সুদীর্ঘ সংগ্রামী ইতিহাস আর প্রতিরোধের রাজধানী। বাংলাদেশে ৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা এখান থেকেই হয়েছিল।

চট্টগ্রামের গর্বিত সন্তান বর্তমানে এলডিপির চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম চিৎকার দিয়ে বলেছিলেন ‘উিই রিভল্ট’। জিয়াউর রহমান সাহেবকে হাতে ধরে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। আজ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমি লড়াই করেছি রনাঙ্গনে। জাতীয়তাবাদী দল গঠনে আমি ছিলাম তৃতীয় ব্যক্তি।

তিনি এখন বলেন, আমি বিএনপিতে নাই-থাকতে পারিনা। কারণ এটি জিয়াউর রহমান সাহেবের বিএনপি নয়। এটি বেগম জিয়ারও বিএনপি নয়।

চট্টগ্রামকে গর্বের চট্টলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াতে ইসলামীর আমীর বলেন, অনেকে আক্ষেপ করে বলেন, এটা এখন নামে বাণিজ্যিক রাজধানী, ভেতরে ফকফকা। কিছু মানুষ যুগ যুগ ধরে চট্টগ্রাম বন্দরকে বিক্রি করে কপাল বানিয়েছে। আগামীতে এই সুযোগ আর দেওয়া হবেনা। জনগণের বন্দর জনগণের হবে।

তিনি বলেন, এ বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি। এ জন্মভূমির প্রতি ইঞ্চি মাটির পাহারাদারি করা আমাদের দায়িত্ব। এর আধ ইঞ্চি মাটিও আমরা কাউকে দেবোনা। জুলাই যোদ্ধারা বলেছিল- জীবন দিব জুলাই দিব না।

আমরা তাদের সাথে সুর মিলিয়ে বলছি- জীবন দিব মাটি দিব না। কোন আধিপত্যবাদ আর বাংলাদেশে মানা হবেনা। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আমাদের যুব সমাজ প্রমাণ করেছে দেশের মর্যাদা রক্ষার জন্য যে কোন সময় বুক চিতিয়ে লড়াই করতে তারা প্রস্তুত।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা তো পনের বছর মজলুম ছিলাম। এখন বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে। যদি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে মর্যাদার সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই- তাহলে ফ্যাসিবাদী খাসলতের যারা তাদেরকে চিরতরে লাল কার্ড দেখাতে হবে। তিনি বলেন, সবচাইতে নির্যাতিত দল জামায়াতে ইসলামী ধৈর্য ধরলো। দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করলো।

শহীদ পরিবাগুলোর কাছে দৌঁড়ে গিয়ে হাজির হলো। বন্যা কবলিত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। আর সেই জায়গায় একদল চাঁদাবাজিতে ঝাঁপিয়ে পড়লো। এখানে ওখানে বিভিন্ন জায়গায় দখলদারি শুরু হয়ে গেল।

এই দখলদারি করতে গিয়ে নিজেদের ২৩৪ জন মানুষকে নিজেরাই মেরে ফেলল। এরা বাংলাদেশকে কী দিবে? ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ক্ষমতায় আসার আগে যে বার্তা দিয়েছিল। আজ একই বার্তা দিচ্ছে এই দলটি। সেই দলের নেতাদের বার বার অনুরোধ করার পরও তারা শান্তির পথে আসছেন না।

জামায়াতের আমীর বলেন, এখন তারা লেগেছে আমাদের পেছনে, আমাদের মা বোনদের পেছনে। তারা মা-বোনদের গায়ে হাত দেয়।

তারা হুমকি দেয় কাপড় খুলে ফেলবে। এসবের প্রতিবাদ করি বলেই আমার আইডি হ্যাক করে আমার নামে এত জঘন্য একটা বিষয় চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে আবিস্কার হয়ে গেছে কারা এই কাজ করেছে। ওদের পেছনে কোন কালো হাত আছে সেটাই আমরা আবিস্কার করবো। আল্লাহ সাক্ষী, এ ধরণের নোংরা চিন্তা আমরা জীবনেও করি নাই। আমাদের মা-বাপ এ শিক্ষা আমাদের দেন নাই।

তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজ ইতিমধ্যে জাতিকে একটা বার্তা দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। তরুন ছাত্র সমাজ চাঁবাদাজ, দুর্ণীতিবাজ, মামলাবাজ, নারীদের ইজ্জত হরণকারীদের লাল কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে। এরপরে নির্বাচনগুলো ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে ভয়ে। এভাবে জনজোয়ার ঠেকানো যাবেনা। অপবাদ দিয়ে আমাদের ঠেকাতে পারবেনা। ভয় ভীতি দেখিয়ে আমাদের গতি স্তব্দ করতে পারবেনা। আমাদের মনজিল হচ্ছে আল্লাহর দেওয়া বিধানের ভিত্তিতে এই বাংলাদেশকে একটি ইনসাফ ভিত্তিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলা।

এই যুব সমাজ বেকার ভাতার দাবি জানায়নি। তারা কাজ চায়। আমরা বেকার ভাতা দিয়ে ‍ুযুবসমাজকে অসম্মানিত করবোনা। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আমরা দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলবো। আমরা বাংলাদেশ নামের একটি উড়োজাহাজের ককপিটে ক্যাপ্টেন হিসেবে যুবসমাজকে বসিয়ে দিতে চাই। সেই উড়োজাহাজের যাত্রী হিসেবে আমরা বসে থাকতে চাই। এরা এই উড়োজাহাজ চালিয়ে জাতিতে সামনের দিকে নিয়ে যাবে।

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর আ ন ম শামসুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসান উল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী জেনারেল সিবগাত উল্লাহ, ডাকসু জিএস ফরহাদ হোসেন, জাগপার সহ সভাপতি রাশেদ প্রধান, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের ডা. এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১০ আসনের অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী মো. শফিউল আলমসহ জামায়াতে ইসলামী ও জোটভূক্ত বিভিন্ন দলের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এর আগে ডা. শফিকুর রহমান মহেশখাল, কক্সবাজার, লোহাগাড়া ও সীতাকুন্ডে পৃথক চারটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd24.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD